ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ১৩ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মাসুদ (২৭) নামে এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব বিএস ডাঙ্গী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ওই মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজন মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষক মাসুদকে ধরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে চরভদ্রাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) করিম, এসআই গোলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক মাসুদ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গোদাগারা এলাকার মাহবুর গোলদারের ছেলে। তিনি পূর্ব বিএস ডাঙ্গী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল কুরআন মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফর আলী বলেন, ঘটনাস্থলটি চরভদ্রাসন ও সদরপুর থানার সীমান্তবর্তী এলাকায়। ফলে ঘটনাটি কোন থানার আওতাধীন, সে বিষয়টি বিবেচনা করে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি সদরপুর থানার আওতাধীন হওয়ায় প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আটক শিক্ষককে সদরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় সদরপুর থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় দুই থানার আইনগত এখতিয়ার নিয়েও সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে কোনো অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না। আটক শিক্ষকও এখনো আদালতের বিচারে দোষী সাব্যস্ত হননি।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









