চট্টগ্রামের রাউজানে সশস্ত্র একটি চক্রের সঙ্গে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এসব তথ্য জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গোলাগুলিতে আহত ১২ সদস্য বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের আঘাতের ধরন ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ২৫ সেপ্টেম্বর আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে ওই চক্র মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার রাতে পুলিশ ডাকাত আলমের বাড়িতে অভিযান চালায়।
অভিযানকারী দলের সদস্যরা ডাকাত আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরাও পালটা গুলি চালান।
পুলিশের দাবি, ওই সময় ডাকাত আলম ও আজিজ বসের পাশাপাশি দিলদার হোসেন, মো. রুবেল, মো. মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন এবং মো. বাঁচাসহ আরও কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুই পক্ষের মধ্যে কিছু সময় গুলিবিনিময়ের পর সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে শুরু করলে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। তবে ডাকাত আলম, আজিজ বসসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
অভিযান শেষে আটক দিলদার হোসেনের কাছ থেকে একটি দোনলা বন্দুক এবং একটি একনলা কাটা বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি ও ছয় রাউন্ড সিসা কার্তুজ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা হয়েছে চারটি রামদা, দুটি কটি এবং গুলি বহনের দুটি বেল্টও।
ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎস এবং চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ বলছে, চাঁদাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসবে।









