এশিয়ার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আগামী ১০ অক্টোবর মুখোমুখি হবে দুই দল। ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত দ্বৈরথগুলোর একটি হওয়ায় ম্যাচটি ঘিরে এরই মধ্যে ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় এক বছর আগেই এর সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হয়।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ৭ অক্টোবর। গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট ভারত ও অস্ট্রেলিয়া সেই ম্যাচে মুখোমুখি হবে। এরপর ১০ অক্টোবর ভারত খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
সূচি অনুযায়ী ভারত যে গ্রুপে রয়েছে, সেখানে পাকিস্তানের পাশাপাশি আছে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে এবং যোগ্যতা অর্জন করে আসা একটি দল। অন্যদিকে বি গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং আরেকটি যোগ্যতাপর্ব পেরিয়ে আসা দল।
বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে জায়গা করে নিতে দলগুলোকে কয়েক ধাপের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ২, ৪ ও ৬ অক্টোবর তিনটি যোগ্যতা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এসব ম্যাচের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পাবে দুটি দল।
যোগ্যতা পর্বের শুরুতে ১৪টি দেশের মধ্যে র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে নিচে থাকা তিনটি দল নিয়ে ‘সুপার সিরিজ’ অনুষ্ঠিত হবে। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে তিন দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। এই পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলটি পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ পাবে।
এরপর শুরু হবে দ্বিতীয় রাউন্ড। এই ধাপে মোট ৩০টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এবং অংশ নেবে ১২টি দল। প্রথম ধাপ থেকে উঠে আসা একটি দলও থাকবে এই পর্বে। ১২টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে প্রতিটি গ্রুপে ছয়টি করে দল রাখা হবে। গ্রুপের প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে।
দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ চলবে ৭ থেকে ২৪ অক্টোবর। প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল পরবর্তী ধাপে উঠবে। পাশাপাশি দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে পয়েন্টের হিসাবে সেরা দলটি ‘সুপার ৭’ পর্বে জায়গা করে নেবে।
তৃতীয় রাউন্ড, অর্থাৎ ‘সুপার ৭’, শুরু হবে ২৫ অক্টোবর। এই পর্বে সাতটি দল রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। ফলে মোট ২১টি ম্যাচ হবে। প্রতিটি দল ছয়টি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।
সুপার ৭ পর্বে আগের গ্রুপের কোনো পয়েন্ট বহন করা হবে না। অর্থাৎ এই ধাপে প্রতিটি দল শূন্য পয়েন্ট থেকে নতুন করে যাত্রা শুরু করবে। সাত দলের মধ্যে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে।
সুপার ৭-এর জন্য সাতটি সম্ভাব্য দলকে আগেই নির্ধারিত অবস্থান দেওয়া হয়েছে। ভারতকে রাখা হয়েছে এ১, অস্ট্রেলিয়া এ২ এবং পাকিস্তান এ৩ অবস্থানে। এ৪ অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে বি১ নিউজিল্যান্ড, বি২ দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বি৩ শ্রীলঙ্কা।
তবে নির্ধারিত কোনো দল যদি সুপার ৭-এ জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়, সেই অবস্থানটি পাবে যোগ্যতা অর্জন করা দল। যেমন, অস্ট্রেলিয়া জায়গা না পেলে তাদের নির্ধারিত এ২ অবস্থানটি অন্য যোগ্য দল পেতে পারে। একইভাবে শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে বাংলাদেশ সুপার ৭-এ উঠলে বাংলাদেশ বি৩ অবস্থান পাবে।
সুপার ৭-এর পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল সেমিফাইনালে খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে অন্য সেমিফাইনালে। দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দল ২১ নভেম্বর ফাইনালে মুখোমুখি হবে। সেমিফাইনাল দুটি হবে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর।
র্যাংকিংয়ে অবস্থানের কারণে ভারতকে প্রথম ধাপ খেলতে হবে না। শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল সরাসরি দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করবে। সেখানে তাদের অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলার কথা। এরপর সুপার ৭-এ উঠলে আরও ছয়টি ম্যাচ খেলতে হবে।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারলে ভারতকে মোট ১৩টি ম্যাচ খেলতে হবে। ফলে টুর্নামেন্টের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি বিশ্বকাপের সূচিতে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দলই যদি পরবর্তী ধাপ পেরিয়ে সুপার ৭-এ জায়গা করে নেয়, তাহলে ১০ অক্টোবরের ম্যাচের পর আবারও মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকবে।








