মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পানিতে ডুবে আনিসা আক্তার (১৩) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চালা ইউনিয়নের সট্টি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, সকালে হাঁটতে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত কারণে পানিতে পড়ে যায় আনিসা। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আনিসা আক্তার সট্টি গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। তাঁর বাবা কক্সবাজারের একটি হোটেলে চাকরি করেন। আনিসা কক্সবাজারের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। দাদির অসুস্থতার খবর পেয়ে দুই দিন আগে আনিসার মা কক্সবাজার থেকে সট্টি গ্রামের বাড়িতে আসেন। মায়ের সঙ্গে আনিসাও গ্রামে আসে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আনিসা বাড়ি থেকে বের হয়ে হাঁটতে হাঁটতে সট্টি নতুন ব্রিজের কুমপাড় এলাকায় যায়। সেখানে কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে সে পানিতে পড়ে যায়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা একটি শিশু বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়।
খবর পেয়ে আনিসার চাচা জাহিদুর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি গিয়ে আনিসাকে পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই কিশোরীটির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্মরত মেডিকেল অফিসার প্রীতম দে বলেন, আনিসাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের সৃষ্টি করেছে। মাত্র ১৩ বছর বয়সী আনিসা পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছিল। দাদির অসুস্থতার কারণে মায়ের সঙ্গে কক্সবাজার থেকে সট্টি গ্রামে আসার দুই দিনের মধ্যেই তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
পানিতে ডুবে শিশু-কিশোরদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নদী, খাল, পুকুর বা অন্যান্য জলাশয়ের আশপাশে চলাচলের সময় অসাবধানতা কিংবা অজান্তে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা প্রাণঘাতী হতে পারে। এ ঘটনায়ও আনিসা ঠিক কীভাবে পানিতে পড়ে যায়, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জে. ও. এম. তৌফিক আজম বলেন, খবর পাওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে। তবে কিশোরীটির পানিতে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার অন্য কোনো দিক সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।









