,

চট্টগ্রামে ১৬ মামলার আসামি মুরাদ দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত মুরাদকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন সুমন ও রুহুল আমিন।

মঙ্গলবার রাতে বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরাদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১৬টি মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর পিসিপিআর বা পূর্ব অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে এসব মামলার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার রাতে বাকলিয়ার অ্যাক্সেস রোডের পাশে সৈয়দশাহ রোড এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোলাগুলির শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে সংঘর্ষের পেছনে কারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধান চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি পক্ষের নেতা হিসেবে অভিযুক্ত মুরাদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। এ ধরনের বিরোধ কখনও কখনও প্রকাশ্য সহিংসতায় রূপ নেয় এবং এতে আশপাশের সাধারণ মানুষও আতঙ্কের মধ্যে পড়ে। বাকলিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনায়ও গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে স্থানীয় পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।

সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, মুরাদের পিসিপিআর যাচাই করে সিএমপির বিভিন্ন থানায় দায়ের করা ১৬টি মামলায় তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে একই ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন করে আরও তিনজন গ্রেপ্তার হওয়ায় এ ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ জনে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পৃথক মামলাগুলোর ধারাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

মাদক কারবার ও স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আগের মামলাগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো নতুন অভিযোগ বা মামলা যুক্ত হয়েছে কি না, তা আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, অস্ত্রের ব্যবহার এবং মাদক কারবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতের প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছেন।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।