ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নে পরিত্যক্ত একটি পুরোনো ভবন থেকে কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া শটগানের তাজা কার্তুজ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি) ফরিদপুর ক্যাম্পের সদস্যরা।
এসআরবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া এসব গোলাবারুদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হয়েছিল। বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কানাইপুর ইউনিয়নের আখ সেন্টারের পাশের একটি পুরোনো আধাপাকা ভবনে অভিযান চালিয়ে এগুলো উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার জানান, অভিযানে মোট ২৭ রাউন্ড শটগানের তাজা কার্তুজ, ১৩টি টিয়ারশেল এবং সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড পাওয়া গেছে। গোলাবারুদগুলো ভবনের ভেতরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের আশঙ্কা তৈরি হয়।
এসআরবি কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কানাইপুরের নির্দিষ্ট ওই ভবনে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় সেখানে থাকা পরিত্যক্ত গোলাবারুদ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে সেগুলো সেখানে কে বা কারা রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
উদ্ধার হওয়া ২৭ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ, ১৩টি টিয়ারশেল ও সাতটি সাউন্ড গ্রেনেড পুলিশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত এসব উপকরণ কীভাবে থানা থেকে বের হয়ে ওই এলাকায় পৌঁছাল, সেটিও তদন্তের বিষয় হতে পারে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতির মধ্যে একাধিক থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের অস্ত্রাগার ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনাও সামনে আসে।
কানাইপুরে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে কোনো ব্যক্তিকে আটক করার তথ্য জানায়নি এসআরবি। উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের উৎস, সেগুলো সেখানে কতদিন ধরে ছিল এবং এর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় পরবর্তী তদন্তে পরিষ্কার হতে পারে।
এসআরবি জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার করা। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেগুলোর পরিচয় ও আগের ব্যবহারের তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহৃত গোলাবারুদ সাধারণ মানুষের হাতে চলে গেলে তা জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কানাইপুরের এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে গোলাবারুদগুলো কারা লুট করেছিল বা পরবর্তীতে কারা সংরক্ষণ করেছিল, সে বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে দায়ী করে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।








