ফরিদপুরের নগরকান্দায় মালদ্বীপপ্রবাসী স্বামীকে দেশে ফেরাতে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে নিজের শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
এ ঘটনায় বিথী আক্তার (২৮) নামে ওই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর দুই সন্তান আবীর (৯) ও তাবিরকে (৭) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিথীকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক নারীকে শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটির সত্যতা যাচাই এবং ওই নারী ও শিশুর পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে শিশুটির ফুফু থানায় ফোন করে পুলিশকে ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাধানগর গ্রামে অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে বিথী আক্তারকে আটক করা হয় এবং তাঁর দুই সন্তানকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিথী জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী আব্বাস আলী প্রায় সাত বছর ধরে মালদ্বীপে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পরও তিনি দেশে ফিরছেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই স্বামীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীকে দেশে ফেরানোর জন্য চাপ সৃষ্টি এবং তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যে বিথী নিজের শিশুসন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে পরে তা স্বামীর কাছে পাঠানো হয়।
তবে ভিডিওতে ঠিক কী ঘটেছিল এবং শিশুটির কোনো শারীরিক ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার প্রকৃত ধরন, এর পেছনে পারিবারিক কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দুই শিশুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিশু দুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার পর তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওকে কেন্দ্র করে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনেক সময় অসম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে পারে; তাই তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
ওসি রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, ঘটনার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিথী আক্তারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রায় সাত বছর ধরে স্বামীর বিদেশে অবস্থান এবং তাঁর দেশে না ফেরাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও, পারিবারিক সম্পর্কের অন্য কোনো বিষয় এতে জড়িত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশি তদন্ত শেষ হলে ঘটনার পুরো চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।









