ঢাকার শেয়ারবাজারে রোববার লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও প্রধান সূচকে পতন হয়েছে। বড় মূলধনি বা লার্জ-ক্যাপ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বাজারের সামগ্রিক সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা দর বাড়া শেয়ারের তুলনায় বেশি ছিল।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ৫ হাজার ৫৩৩ পয়েন্ট। ফলে এক দিনের ব্যবধানে সূচকটি সাত পয়েন্টের কাছাকাছি হারিয়েছে।
সূচকের পতন হলেও বাজারে লেনদেনের গতি কিছুটা বেড়েছে। ডিএসইতে দিন শেষে মোট ৭৪০ কোটি টাকার শেয়ার ও সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ২০ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বস্ত্র খাত। দিনের মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ২ শতাংশ এসেছে এ খাতের শেয়ার থেকে। এরপর রয়েছে সাধারণ বীমা খাত, যার অংশ ছিল ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ার লেনদেনে অবদান রেখেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ।
সাধারণ বীমা খাতে উল্লেখযোগ্য লেনদেন হলেও এর প্রভাব পুরো বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করতে পারেনি। বাজারের প্রধান সূচক নির্ধারণে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দামের ওঠানামার প্রভাব তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় ডিএসইএক্সেও চাপ তৈরি হয়েছে।
দিনের লেনদেনে বাজারের বিস্তৃত চিত্রও ছিল কিছুটা দুর্বল। ডিএসইতে মোট ৩৯৫টি শেয়ার ও সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১২৩টির দর বেড়েছে। বিপরীতে ২১৫টির দর কমেছে। আর ৫৭টি সিকিউরিটিজের দর আগের দিনের অবস্থানেই অপরিবর্তিত ছিল।
অর্থাৎ, দর কমা সিকিউরিটিজের সংখ্যা দর বাড়া সিকিউরিটিজের চেয়ে ৯২টি বেশি। এই ব্যবধান বাজারে বিক্রির চাপের একটি চিত্র তুলে ধরে। যদিও কিছু খাতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, তবু সামগ্রিকভাবে বেশি সংখ্যক শেয়ারের দরপতন বাজারের সূচককে নিচের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ছিল মিশ্র প্রবণতা। সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স বা সিএএসপিআই ৫ দশমিক ৬ পয়েন্ট কমেছে।
রোববারের বাজারচিত্রে তাই দুটি বিষয় পাশাপাশি দেখা গেছে—লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু সূচক কমেছে। বস্ত্র, সাধারণ বীমা ও ওষুধ-রসায়ন খাতে সক্রিয় লেনদেন থাকলেও বড় মূলধনি শেয়ারের দুর্বলতা এবং অধিকসংখ্যক সিকিউরিটিজের দরপতনের কারণে দিন শেষে ঢাকার শেয়ারবাজার নেতিবাচক অবস্থানে থেকে লেনদেন শেষ করেছে।









