দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত অসুস্থতায় শিশুদের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬ শিশু।
শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের হিসাব তুলে ধরে প্রকাশিত তথ্যে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত সংখ্যা অনুযায়ী, হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৫। তবে উপসর্গজনিত মৃত্যু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর হিসাব আলাদা। চিকিৎসা ও পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হামের মতো উপসর্গ অন্য রোগের ক্ষেত্রেও দেখা যেতে পারে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ঘটতে পারে। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের প্রধান লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে।
হামে আক্রান্ত অনেক শিশু সুস্থ হয়ে উঠলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো সমস্যা রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন করে তুলতে পারে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত শনাক্ত করা, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। জ্বরের সঙ্গে ফুসকুড়ি দেখা দিলে শিশুকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অতিরিক্ত নিস্তেজতা কিংবা খাবার ও পানি গ্রহণে অক্ষমতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর যে হিসাব প্রকাশিত হয়েছে, তা শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং যথাযথ চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র বুঝতে পরীক্ষায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা, বয়সভিত্তিক তথ্য, টিকাদানের আওতা এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।









