পাবনায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আবারও এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আতাইকুলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পর পুলিশ সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাইফুল ওই শিশুকে ডেকে নেন। পরে সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা এগিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সাইফুল দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ কয়েকজন সাইফুলের বাড়ি ও চায়ের দোকানে গিয়ে ভাঙচুর চালান। পরে তার চায়ের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, শিশুটিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের কথা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এরই মধ্যে স্থানীয়রা অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালান এবং পরে দোকানে আগুন দেন।
ওসি বলেন, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর সাইফুলকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই জেলায় এর আগে আরেক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। গত ৯ সেপ্টেম্বর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই ঘটনায় মোস্তফা নামে এক মুদি দোকানি এবং তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর জেরে কয়েকদিন ধরে বিক্ষুব্ধ লোকজন দফায় দফায় অভিযুক্ত মোস্তফার দ্বিতল ভবনে ভাঙচুর চালান।
এরই মধ্যে নতুন করে আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠায় এলাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে নতুন ঘটনার অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত এবং ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের লিখিত অভিযোগের পরই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
এদিকে অভিযুক্তের বাড়ি ও দোকানে হামলা এবং আগুন দেওয়ার ঘটনাটিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো অভিযোগের বিচার আইনগত প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা থাকলেও ক্ষুব্ধ জনতার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।









