নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনামূহী এলাকায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলের এ ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার স্বামীসহ পরিবারের আরও চারজনের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ চারজন হলেন—রায়েশা বেগমের স্বামী জাকির হোসেন (৫৪), ছেলে সজিব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) এবং ছোট ছেলে সামিন হোসেন (৫)।
রায়েশা বেগমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামে। তিনি জাকির হোসেনের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্বজনদের সঙ্গে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৪ জন স্বজন ট্রলারে করে রওনা হন। ওই অনুষ্ঠানে শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
যাত্রার সময় ট্রলারে বিয়ের বাজারের বিভিন্ন সামগ্রী ছাড়াও দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিয়ের আয়োজনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে নদীপথে যাচ্ছিলেন।
পথে সোনামূহী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই একপর্যায়ে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
ট্রলারডুবির খবর পেয়ে কাছাকাছি থাকা আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার দ্রুত এগিয়ে আসে। তাদের লোকজন উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে জাকির হোসেন, তার স্ত্রী রায়েশা বেগম এবং তাদের তিন সন্তান নিখোঁজ হয়ে যান।
এরপর নৌপুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য উদ্ধারকারীরা মেঘনা নদীতে খোঁজ শুরু করেন। সন্ধ্যার দিকে নদী থেকে রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মরদেহ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে একই পরিবারের আরও চারজন নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। নদীর তীরে পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজনেরা নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল মেঘনা নদীতে পৌঁছে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল ও নদীর বিভিন্ন অংশে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে সন্ধ্যা নেমে আসায় পানিতে ডুবুরি অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। রাতে নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া গেলে সকালে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছেন।
তিনি জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই পরিবারের সদস্যরা গরু, খাসি ও বিয়ের বাজার সঙ্গে নিয়ে সোনারগাঁয়ের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে মেঘনায় ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, উদ্ধার হওয়া রায়েশা বেগমের লাশ সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের নিখোঁজ চার সদস্যকে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।
নদীতে ঝড়ের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে নৌযান ডুবে গেলে রাতের অন্ধকারে নিখোঁজদের শনাক্ত ও উদ্ধার করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে দিনের আলো ফিরে এলে উদ্ধারকারী দল নদীর বিস্তৃত এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিখোঁজ চারজনের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









