রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধ কর্মকাণ্ড দমনে জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোট ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ডিএমপির সবকটি অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে মিরপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই বিভাগ একাাই ৯০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপরই রয়েছে মতিঝিল বিভাগ, যেখান থেকে ৮৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য এলাকার মধ্যে তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৮০ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৬৪ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগ থেকে প্রত্যেকে ৩৮ জন করে, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৪ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৩ জন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরাধ দমনে প্রতিটি থানার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীকে পাকড়াও করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
অভিযানের সময় অপরাধীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি শটগানের কার্তুজ, দুটি ছুরি, ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯টি ইয়াবা এবং ২৩ বোতল বিদেশি মদ। এছাড়া অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান, ১১টি মুঠোফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্ট্যাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, কিছু ফয়েল পেপার এবং নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করা হয়। এই ব্যাপক তল্লাশির সময় পুলিশ একজন ভুক্তভোগীকেও নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মোট ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে সোপর্দ করার কাজ চলছে। ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান আরও কঠোর করা হবে।
ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানের পরিসংখ্যান একনজরে
| ক্রমিক | তথ্যের বিবরণ | পরিসংখ্যান ও তথ্য |
| ১ | অভিযানের সময়কাল | বিগত ২৪ ঘণ্টা |
| ২ | মোট গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি | ৪৬৫ জন |
| ৩ | দায়েরকৃত মামলার সংখ্যা | ৪৫টি |
| ৪ | সর্বোচ্চ গ্রেপ্তার এলাকা (মিরপুর বিভাগ) | ৯০ জন |
| ৫ | দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গ্রেপ্তার এলাকা (মতিঝিল বিভাগ) | ৮৩ জন |
| ৬ | তেজগাঁও ও ওয়ারী বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার | যথাক্রমে ৮০ ও ৬৪ জন |
| ৭ | রমনা, লালবাগ, উত্তরা ও গুলশান বিভাগ | যথাক্রমে ৩৮, ৩৮, ৩৪ ও ৩৩ জন |
| ৮ | গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার | ৫ জন |
| ৯ | উদ্ধারকৃত প্রধান মাদকদ্রব্য | ৫০ কেজি গাঁজা ও ২৯৯টি ইয়াবা |
| ১০ | উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও নগদ অর্থ | ১টি ওয়ান শুটারগান, কার্তুজ ও নগদ ৪,৫০০ টাকা |
রাজধানীর সাধারণ নাগরিকরা পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা, অপরাধ দমনে এমন ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধপ্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং রাজধানীতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।








