,

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে ১০৪ মৃত্যু, ছাড়াল আট মাসের মোট

সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এডিস মশাবাহিত রোগটির সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার সেপ্টেম্বরে দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত, ডেঙ্গু আক্রান্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৮৬৮ জন। আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৭২ জন।

চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫৫৭ জনসহ মোট ৬২ হাজার ১১৭ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ডেও চলতি বছরের আক্রান্ত ও মৃত্যুর প্রবণতা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বরের চিত্র বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। চলতি মাসে ইতোমধ্যে ৩১ হাজার ৫২১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অথচ পুরো আগস্টে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। অর্থাৎ এক মাস শেষ হওয়ার আগেই সেপ্টেম্বরে রোগী ভর্তির সংখ্যা আগস্টের তুলনায় প্রায় ১১ হাজার বেশি হয়েছে।

মৃত্যুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ডেঙ্গুতে যতজনের মৃত্যু হয়েছে, শুধু সেপ্টেম্বরেই তার চেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৪৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা ১০৪-এ পৌঁছানোয় মাত্র এক মাসেই আগের দুই মাসের সম্মিলিত মৃত্যুর চেয়েও অনেক বেশি প্রাণহানি ঘটেছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০৫ জন, যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। খুলনা বিভাগে ২৮০ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বরিশালে ১৭৮ জন, ময়মনসিংহে ১১৩ জন, রংপুরে ৫৯ জন, সিলেটে আটজন এবং রাজশাহীতে ১৫৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে, রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গুর বিস্তার এখন বড় একটি বাস্তবতা। চলতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৬৫ হাজার ৪৯৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য ড্যাশবোর্ডে রয়েছে এবং মোট মৃত্যু ১৯৫ জন হিসেবে দেখানো হয়েছে; পরে নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ায় দৈনিক হিসাবে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত বর্ষাকালে বাড়ে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন ঘটে এবং শহরাঞ্চলের পাশাপাশি এখন দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও এ রোগের বিস্তার দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা—সবগুলো ব্যবস্থাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো সেপ্টেম্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর দ্রুত বৃদ্ধি। হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুতর রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজনও বাড়ছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বরের পাশাপাশি শারীরিক অবস্থার অবনতি, রক্তপাত বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এদিকে সেপ্টেম্বরের এখনও কয়েক দিন বাকি। ফলে মাস শেষ হওয়ার আগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক দৈনিক পরিসংখ্যানই দেখাচ্ছে, চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও সংক্রমণের চাপ তৈরি করেছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।