বাংলাদেশ ক্রিকেটে জাতীয় দলের বিদেশ সফরে নির্বাচকদের উপস্থিতির প্রচলিত ধারায় পরিবর্তন আসছে। আসন্ন নারী ও পুরুষ দলের দুই আন্তর্জাতিক সফরে কোনো নির্বাচক দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না। বিসিবির নতুন নীতির অংশ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে মিরপুরে অনুশীলনে ব্যস্ত বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। সামনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা। সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে গিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়েকে সঙ্গে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজেও অংশ নেবে তারা।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এখন জাপানে অবস্থান করছে। এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়ার পর দেশে ফিরবেন নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা। তবে দেশে ফেরার পর দীর্ঘ বিরতির সুযোগ নেই। পরবর্তী সফরেই তাদের অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দিতে হবে। সেখানে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল।
দুই দলের সামনে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা থাকলেও এবার কোনো নির্বাচককে সফরসঙ্গী করা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটে এত দিন সাধারণত জাতীয় দলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অন্তত একজন নির্বাচকের উপস্থিতি দেখা যেত। দেশে কিংবা বিদেশে সিরিজ হলে দলের সঙ্গে থেকে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করতেন নির্বাচকরা।
বিশেষ করে নতুন ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক পরিবেশে পারফরম্যান্স, নিয়মিত খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং দলের প্রয়োজনীয়তা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেতেন নির্বাচকরা। সফরের সময় টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ থাকত। সেই প্রচলিত ব্যবস্থাতেই এবার পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বিসিবি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এখন থেকে প্রতিটি সিরিজে নিয়ম করে নির্বাচকদের সফরে পাঠানো হবে না। কোনো সফরের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেই সফরে নির্বাচক পাঠানোর প্রয়োজন আছে কি না।
অর্থাৎ, নির্বাচকদের সফর এখন থেকে অনেকটা প্রয়োজনভিত্তিক হবে। সব আন্তর্জাতিক সিরিজে একই নিয়ম অনুসরণ না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড। আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর সেই নতুন ব্যবস্থারই প্রথম দিকের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে বাংলাদেশ নারী ও পুরুষ দলের ব্যস্ত সূচি থাকায় নির্বাচকদের দায়িত্বও বিস্তৃত হচ্ছে। নারী দলকে এশিয়ান গেমসের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে যেতে হবে, আর পুরুষ দলকে খেলতে হবে টেস্ট ও ত্রিদেশীয় সিরিজ। এমন সূচির মধ্যেও বিসিবি এবার সব সফরে নির্বাচকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক রাখছে না।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতে বিদেশ সফরে নির্বাচকরা আর যাবেন না। বরং কোনো সিরিজকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, সেখানে সরাসরি খেলোয়াড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন কতটা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি কী—এসব বিবেচনা করেই পরবর্তী সফরগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আসন্ন দুই সফরে নির্বাচকদের অনুপস্থিতির মধ্যেই তাই মাঠের ক্রিকেটে মনোযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। পুরুষ দলের লক্ষ্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরা। নারী দলের সামনে এশিয়ান গেমসের পর অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে ওয়ানডে সিরিজের চ্যালেঞ্জ।
বিসিবির নতুন নীতি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয়, ভবিষ্যতের সিরিজগুলোতেই তার আরও পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। আপাতত নিশ্চিত, জাতীয় দলের নিয়মিত সফরসঙ্গী হিসেবে নির্বাচকদের যে উপস্থিতি এত দিন দেখা গেছে, আসন্ন দুই সফরে সেই চিত্র থাকছে না।








