রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নদীমাতৃক এই দেশে প্রায়ই বিভিন্ন জলাশয় বা নদী থেকে এ ধরনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে থাকে, যা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
গত শনিবার দুপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর দুটি ভিন্ন এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বরিশুর নৌ-পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়া জানান, শনিবার বেলা বারোটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে একটি কল আসে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িগঙ্গা নদীর বেপারিঘাট বরাবর মাঝ নদী থেকে প্রায় চল্লিশ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তির শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের দৃশ্যমান চিহ্ন ছিল না। তবে প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, মরদেহটি অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগের হতে পারে। নদী বা পানির নিচে দীর্ঘদিন থাকলে যেভাবে ফুলে ওঠে বা বিকৃত হয়, এই ক্ষেত্রটিও তেমনই ছিল।
অন্যদিকে, হাসনাবাদ নৌ-পুলিশের আওতাধীন এলাকা থেকেও আরেকটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বুড়িগঙ্গার দোলেশ্বর খেয়াঘাট এলাকা দিয়ে নৌকাযোগে নদী পার হচ্ছিলেন। সে সময় তারা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। হাসনাবাদ নৌ-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ছাব্বিশ থেকে আঠাশ বছরের মতো হতে পারে। তার পরনে ছিল একটি জিন্সের প্যান্ট এবং ফুল হাতা শার্ট। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তার শরীরেও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তাদের আঙ্গুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক ডাটা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন থানায় নিখোঁজ ডায়েরির সাথে মেলানোর কাজ চলছে। একই সাথে তারা কীভাবে নদীর পানিতে এলেন এবং তাদের মৃত্যুর আসল কারণ কী, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু বা আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এ ধরনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









