রাজধানীর সূত্রাপুর থানাধীন শ্যামবাজার এলাকায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজ ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়, যেখানে বর্তমানে তারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
গত শনিবার বিকেলের দিকে শ্যামবাজারের একটি আবাসিক বাসায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পারিবারিক কোনো একটি বিষয় নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ইমন সিদ্দিক নামের এক যুবক তার নিজের কক্ষে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে উপস্থিত পরিবারের অন্য সদস্যরাও এর ভয়াবহতার শিকার হন। আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ঘরটির ভেতরে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সন্ধ্যা নাগাদ দগ্ধ অবস্থায় ওই পাঁচজনকে রাজধানীর কেন্দ্রিয় চিকিৎসাকেন্দ্র জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যাঁরা অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন, তাদের নাম ও পরিচয় নিশ্চিত করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দগ্ধরা হলেন সিদ্দিক (৩৫), তার ছেলে ইমন (২৫), সিদ্দিকের ভাগিনা রাজিব (৩৫), ভাগ্নি তানিয়া (১৮) এবং অপর ভাগিনা দুলু মিয়া (৩৪)। একই পরিবারের এতগুলো মানুষ একসঙ্গে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় পুরো এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুলতান মাহমুদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, সূত্রাপুরের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের যে পাঁচজন এসেছিলেন, তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সবার শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দগ্ধদের মধ্যে একজনের শরীরের প্রায় আটানব্বই শতাংশ পুড়ে গেছে, যা তাদের বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই আকস্মিক আগুন লাগার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। পরিবারের ভেতরের কোনো দীর্ঘমেয়াদী বিরোধের জেরে এই আত্মঘাতী বা ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।









