জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় শিশু মরিয়ম হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, মাদক ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক দুজন হলেন আদারভিটা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিপু হাসান এবং সংগঠনটির সদস্য মিরাজ। দিপু হাসান গজারিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। মিরাজ একই গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে ‘যুব সমাজ’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। কর্মসূচিতে গত সপ্তাহে শিশু মরিয়ম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে এলাকায় ধর্ষণ, মাদক ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ ও উদ্বেগের মধ্যে মরিয়ম হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল বলে জানান বাসিন্দারা।
মানববন্ধন চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে দিপু হাসান ও মিরাজকে সেখান থেকে আটক করা হয়। তাঁদের আটকের পর কর্মসূচিস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহসীষ রায় বলেন, মরিয়ম হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরে মিছিল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়দের আয়োজিত কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল শিশু মরিয়ম হত্যার বিচার দাবি করার পাশাপাশি এলাকায় নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং মাদক ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো। তবে পুলিশ যে কারণে দুজনকে আটক করেছে, সে বিষয়ে থানার পক্ষ থেকে মিছিল ও স্লোগানের বিষয়টি উল্লেখ করা হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা মামলার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তির পরবর্তী আইনি অবস্থান সম্পর্কেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।








