,

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু বাড়ছে, ১৭ দিনেই আক্রান্ত ৬১২

নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৩১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনেই ৬১২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, যা চলতি বছরে এ পর্যন্ত এক মাসের হিসেবে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ২৭ জন রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর অবস্থার কারণে কোনো রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়নি।

নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া আড়াইহাজারে আটজন, রূপগঞ্জে ১০ জন, বন্দরে দুজন এবং সোনারগাঁয়ে সাতজন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জে কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৭ দিনে ৬১২ জন আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুরো বছরের আক্রান্তের হিসাবের তুলনায় মাত্র ১৭ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অপরিচ্ছন্নতা ও মানুষের অসচেতনতার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিশেষ ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না, রোগ প্রতিরোধেও সাধারণ মানুষকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে পানি জমে থাকে সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, নির্মাণসামগ্রী কিংবা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের ১৭ দিনেই ৬১২ জনের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা চলতি বছর নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বৃদ্ধির তীব্রতা স্পষ্ট করছে। জেলায় বর্তমানে ১৬৭ জন চিকিৎসাধীন থাকায় হাসপাতালগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সিভিল সার্জন সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রোগীকে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।