আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। ম্যাচের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করা বাঁহাতি এই ব্যাটার ইনিংসের শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। এরপর আফগান বোলারদের ওপর একের পর এক বাউন্ডারি মেরে মাত্র ৩০ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি।
অভিষেকের এই বিধ্বংসী ইনিংস শুধু ভারতের জন্যই নয়, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়েও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটারদের বিবেচনায় টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এখন তার দখলে।
এর আগে এই রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের। চলতি বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩ বলে শতক করেছিলেন তিনি। একই সংখ্যক বলে সেঞ্চুরি রয়েছে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজারও। তবে রাজার ওই ইনিংসটি ছিল গাম্বিয়ার বিপক্ষে। গাম্বিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ নয়।
অভিষেকের ৩০ বলে সেঞ্চুরি তাই টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে নতুন দ্রুততম। তার ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল শুরু থেকেই বড় শট খেলার মানসিকতা। প্রথম বলের ছক্কা দিয়ে যে বার্তা দিয়েছিলেন, পুরো ইনিংসজুড়েই সেটি ধরে রাখেন তিনি।
তবে সহযোগী দেশগুলোকেও দ্রুততম সেঞ্চুরির হিসাবের মধ্যে রাখা হলে অভিষেকের অবস্থান তৃতীয়। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান। সাইপ্রাসের বিপক্ষে মাত্র ২৭ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে আছেন তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ। বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ২৯ বলে শতক করেছিলেন তিনি।
অভিষেক অবশ্য শতকের পর ইনিংসকে খুব বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি। ৩০ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর আরও মাত্র চার বল খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ১০৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন এই ভারতীয় ওপেনার।
তার ১০৮ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কায়। অর্থাৎ মাত্র ৩৪ বলের ইনিংসে ২০টি বাউন্ডারি থেকেই আসে ১০২ রান। এতে বোঝা যায়, তার ইনিংসের বড় অংশই ছিল দ্রুত রান সংগ্রহের ওপর নির্ভরশীল।
মাত্র কয়েক ওভারের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো এই ইনিংসে অভিষেক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত রাখলেন। ৩০ বলে সেঞ্চুরি করার কীর্তি তাকে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্রুততম শতকের রেকর্ডধারীও করেছে।









