নরসিংদীর মাধবদীতে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজরত অবস্থায় ৭৩ বছর বয়সী জাহানারা বেগমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বৃদ্ধার গলায় থাকা সোনার চেইন চুরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আশিকুর রহমান।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মাধবদী থানার মেহেরপাড়া ইউনিয়নের স্বর্ণনিগৈড় গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া (২৭), একই গ্রামের ছায়েদের ছেলে কাদির মিয়া (২৭) এবং আকমান মিয়ার ছেলে আবু মিয়া (২৯)। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় স্বর্ণনিগৈড় গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় নামাজ পড়ছিলেন জাহানারা বেগম। ওই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর নিহতের ছেলে মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরপর পৃথক অভিযানে হৃদয় মিয়াকে ৯ আগস্ট, কাদির মিয়াকে ৩০ আগস্ট এবং আবু মিয়াকে ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও তাদের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার পেছনে সোনার চেইন চুরির পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় বসে তারা এ পরিকল্পনা করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে জাহানারা বেগমের বাড়িতে ঢুকে চেইনটি ছিনিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। পরে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে দেখতে পায়, জাহানারা নামাজরত অবস্থায় রয়েছেন। সেই সুযোগে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার একপর্যায়ে বিদ্যুৎ চলে আসে। এতে জাহানারা বেগম হামলাকারীদের চিনে ফেলেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তখন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিঠ ও মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তার গলার সোনার চেইন নিয়ে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর হত্যার পাশাপাশি লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পায়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে মামলার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের গলার সোনার চেইনটি এখনো উদ্ধার হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। চেইনটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।









