,

নিখোঁজের একদিন পর ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নিখোঁজের একদিন পর আইয়ুব হোসেন (৫০) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কাঁচপুর ইউনিয়নের কাঁচপুর এলাকায় জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামিল হোসেন নামে এক নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

নিহত আইয়ুব হোসেন কাঁচপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত থেকে আইয়ুব হোসেনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তবে তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছে আগাম কোনো তথ্য ছিল না।

বুধবার সকালে কাঁচপুর এলাকার জালালাবাদ ওষুধ কোম্পানির পেছনে আইয়ুব হোসেনের ভাঙারি গোডাউনের পাশের একটি ডোবায় একটি বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বস্তাটি দেখে তাদের সন্দেহ হলে বিষয়টি দ্রুত সোনারগাঁ থানা পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবা থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। পরে বস্তার মুখ খুললে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আইয়ুব হোসেনের লাশ পাওয়া যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর ধরন ও শরীরে আঘাতের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক বলেন, নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এক নিরাপত্তা প্রহরীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, আইয়ুব হোসেনের নিখোঁজ থাকার বিষয়টি পুলিশকে আগে জানানো হয়নি। থানায় এ বিষয়ে কেউ অবহিতও করেননি।

এদিকে ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ‘খ সার্কেল’ দীপংকর ঘোষ এবং সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আবদুল বারিক। তাঁরা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্তকারীরা এখন আইয়ুব হোসেনের নিখোঁজ হওয়ার সময় থেকে লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তার গতিবিধি, কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং গোডাউনের আশপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি আটক নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে নিহতের কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।

নিখোঁজ হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই একটি পরিত্যক্ত স্থানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল বা এতে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।