দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রিন্স আলবার্ট ও লিউ-গামকা শহরের মধ্যবর্তী এন-১ মহাসড়কে দুটি মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি স্টেশন ওয়াগনের সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে এন-১ মহাসড়কের ওই অংশে তিনটি যানবাহনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধারকাজ চালানো হয়।
প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে উদ্ধার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এতে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়ায়। আহত তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর এন-১ মহাসড়কের ওই অংশের উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সড়কটিতে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার, আহতদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্ঘটনাস্থল নিরাপদ রাখার কাজ করেন।
এন-১ দক্ষিণ আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোর একটি। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলকে সংযুক্ত করা এই দীর্ঘ যোগাযোগপথে পণ্যবাহী যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পরিবহনকারী যানবাহনের চলাচল রয়েছে। তাই এই মহাসড়কে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে স্থানীয় যান চলাচলে দ্রুত প্রভাব পড়ে। তবে এই নির্দিষ্ট দুর্ঘটনার কারণে কতক্ষণ সড়কটি বন্ধ ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুটি মিনিবাস ট্যাক্সি ও স্টেশন ওয়াগনটির মধ্যে সংঘর্ষের পেছনে চালকের অসতর্কতা, যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি, রাস্তার অবস্থা কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো অনুমানকে এখনই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। দুর্ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের অবস্থা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
এদিকে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার কাজও চলছে। একসঙ্গে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় দুর্ঘটনাটি ওয়েস্টার্ন কেপে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর মহাসড়কের স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরায় চালু করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।









