ঢাকা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, প্রবাসী আয়, বিদেশে শিক্ষা ও ভ্রমণসহ নানা ধরনের আর্থিক লেনদেনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিস্তৃত হওয়ায় প্রতিদিনই এসব মুদ্রার দর নিয়ে আগ্রহ থাকে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, প্রবাসী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বাংলাদেশি টাকার বিপরীতে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত মুদ্রাগুলোর মধ্যে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সবচেয়ে বেশি। এক পাউন্ডের বিনিময় হার ১৬৬ টাকা ৪১ পয়সা। এরপর রয়েছে ইউরো ও মার্কিন ডলার।
আজকের প্রকাশিত হার অনুযায়ী, এক ইউরোর মূল্য ১৪২ টাকা ৭৭ পয়সা এবং এক মার্কিন ডলারের মূল্য ১২৩ টাকা ১০ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের দর ৯৭ টাকা ১৪ পয়সা। কানাডীয় ডলারের বিনিময় হার ৮৮ টাকা ৭৩ পয়সা এবং অস্ট্রেলীয় ডলারের ৮৮ টাকা ২৪ পয়সা।
এ ছাড়া এক চীনা ইউয়ান রেনমিনবির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা। সুইডিশ এক ক্রোনার ১২ টাকা ৬৯ পয়সা। এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মুদ্রার মধ্যে এক ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ২৯ পয়সা এবং এক শ্রীলঙ্কান রুপির মূল্য ২ টাকা ৬৭ পয়সা। জাপানি ইয়েনের ক্ষেত্রে এক ইয়েনের মূল্য ৮০ পয়সা।
আজকের উল্লেখযোগ্য মুদ্রার দর
| বৈদেশিক মুদ্রা | বাংলাদেশি টাকায় বিনিময় হার |
|---|---|
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৬ টাকা ৪১ পয়সা |
| ইউরো | ১৪২ টাকা ৭৭ পয়সা |
| ইউএস ডলার | ১২৩ টাকা ১০ পয়সা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৭ টাকা ১৪ পয়সা |
| কানাডীয় ডলার | ৮৮ টাকা ৭৩ পয়সা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৮ টাকা ২৪ পয়সা |
| চীনা ইউয়ান রেনমিনবি | ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা |
| সুইডিশ ক্রোনা | ১২ টাকা ৬৯ পয়সা |
| শ্রীলঙ্কান রুপি | ২ টাকা ৬৭ পয়সা |
| ভারতীয় রুপি | ১ টাকা ২৯ পয়সা |
| জাপানি ইয়েন | ৮০ পয়সা |
বৈদেশিক মুদ্রার এই দর দেশের অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আমদানিকারকদের বিদেশ থেকে পণ্য, কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে কোনো বৈদেশিক মুদ্রার মূল্য বাড়লে একই পরিমাণ পণ্য আমদানিতে টাকার হিসাবে ব্যয়ও বাড়তে পারে। অন্যদিকে রপ্তানিকারকরা বৈদেশিক মুদ্রায় আয় করলে তা দেশে আনার সময় বিনিময় হারের প্রভাব পড়ে।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও মুদ্রার দর গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বিভিন্ন মুদ্রায় অর্থ পাঠান, যা দেশে এসে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তরিত হয়। ফলে বিনিময় হার প্রবাসী পরিবারের হাতে পৌঁছানো অর্থের পরিমাণেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনার ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট মুদ্রার দর বিবেচনায় নিতে হয়। একইভাবে আন্তর্জাতিক লেনদেনে জড়িত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মুদ্রার ওঠানামার বিষয়টি হিসাবের মধ্যে রাখতে হয়।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত কোনো রেফারেন্স বা নির্ধারিত হারকে সব ক্ষেত্রে গ্রাহকের চূড়ান্ত লেনদেনের হার হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। ব্যাংক, অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ ও অন্যান্য বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মুদ্রা কেনাবেচার সময় প্রযোজ্য হার লেনদেনের ধরন ও সময় অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা ও সরবরাহসহ বিভিন্ন কারণে বিনিময় হার পরিবর্তিতও হতে পারে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সঙ্গে আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকেরও সম্পর্ক রয়েছে। তাই মুদ্রার বিনিময় হার শুধু বিদেশে যাতায়াত বা ব্যক্তিগত লেনদেনের বিষয় নয়; দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব রয়েছে।
নোট: বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সময় ও বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। উপরের হার বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ হার যাচাই করা উচিত।









