ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গ্রাম্য বিরোধের জেরে চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলাম শেখ ওরফে রবিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। আড়াই মাস আগে একই বিরোধের জেরে নিহত ভাতিজা সুমন শেখের হত্যার বিচার চেয়ে আসার পর এবার প্রাণ হারাতে হলো তার চাচাকেও। এই লোমহর্ষক হামলায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে। কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের উপজেলার মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। নিহত ৫৫ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে। তিনি কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে এলাকার আরও তিনজনের সঙ্গে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলেন রবিউল। তারা মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাদের পথরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের উপুর্যপরি কোপে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন রবিউল ইসলাম।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) এবং লিটন খান (৪০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে মোক্তার বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তীব্র বিরোধ চলছে। এই বিরোধের সূত্র ধরে গত ২৬ জুন সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে কলেজছাত্র সুমন শেখকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত সুমন ছিলেন রবিউল ইসলামের ভাই আলাউদ্দিন শেখের ছেলে এবং কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সুমন হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা গ্রেফতার হলেও সম্প্রতি তারা জামিনে মুক্ত হন। এর পর থেকেই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল।
পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, আগের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ায় এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সুমনের চাচাকেও হত্যা করা হয়েছে। তবে জামিনে মুক্ত আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনই নিশ্চিত কিছু জানায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মাসুদুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরেশোরে কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।









