সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিদেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার এবং বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের নতুন অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে আগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববারে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আসিফ মাহমুদ যখন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন, সেই সময় প্রশাসনিক পদায়ন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা ও প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কেবল কয়েকটি নির্দিষ্ট খাত থেকেই প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য খতিয়ে দেখছে দুদক। এর মধ্যে ঢাকা ওয়াসা ও এলজিইডির শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগের বিনিময়ে বড় অঙ্কের উৎকোচ নেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।
তদন্ত নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়মিত হেলিকপ্টার ব্যবহার করে যাতায়াত এবং পাঁচ তারকা হোটেলে বিলাসবহুল জীবনযাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে এই অনুসন্ধানে।
দুদকের অনুসন্ধানে চার দেশে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে পাচার করা হয়েছে।
- পর্তুগাল: জমি ও সম্পত্তি কেনা
- দুবাই: গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার
- সিঙ্গাপুর: ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার
- অস্ট্রেলিয়া: ২ হাজার কোটি টাকা পাচার
- সুইজারল্যান্ড: ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও সুইস ব্যাংকে হিসাব খোলা
- মোট পাচারকৃত অর্থ: প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন প্রশাসক নিয়োগ: ৬০ কোটি টাকা লেনদেন
- এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ: ৫২ কোটি টাকা লেনদেন
- গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রধান নির্বাহী নিয়োগ: ৬৫ কোটি টাকা লেনদেন
- ঢাকা ওয়াসা এমডি নিয়োগ: ১০ কোটি টাকা লেনদেন
দুদক জানিয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, তার ব্যক্তিগত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া এবং কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও তদবির বাণিজ্যের প্রমাণ খোঁজা হচ্ছে। তবে দুদক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে এই সমস্ত বিষয় বর্তমানে কেবল প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনও আইনগতভাবে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









