বিয়ের উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হলো গভীর শোক ও কান্নার রোল। চট্টগ্রাম নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিয়ে মাইক্রোবাসে করে নিজ বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন সবাই। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো হলো না সবার। পথেই ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চারজন মানুষ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত এগারোজন যাত্রী, যাদের অনেকেই এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন।
শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রাত তখন প্রায় আড়াইটা। মাইক্রোবাসটি শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎই ইউটার্ন নিতে যাওয়া একটি বেপরোয়া কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কাটি এতটাই প্রচণ্ড ছিল যে, যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে একাকার হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পরই রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিস ও থানায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান পাঁচ বছরের শিশু মো. ফেরদৌস আলম এবং সতেরো বছর বয়সী তরুণ মিফতাহ। স্থানীয়দের দ্রুত সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রক্তাক্ত ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্নাসহ আরও দুজনের মৃত্যু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মারা যাওয়া চতুর্থ ব্যক্তির নাম ও পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করা হয়েছে, তবে ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। মহাসড়কের এই ব্যস্ত মোড়ে প্রায়শই অপরিকল্পিত ইউটার্ন ও যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। উৎসবের আনন্দ শেষে যারা বাড়ি ফিরছিলেন, তাদের এই অকাল প্রস্থান পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় এখন ভারি হয়ে উঠেছে নিহতদের পরিবারগুলোর বাতাস।









