কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ গুলি, দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কথিত ডাকাত দলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, পিস্তলের গুলি, শটগানের কার্তুজসহ তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
রোববার রাতে মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া ও হালকাচাপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)।
সোমবার দুপুরে চকরিয়া থানা মিলনায়তনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম ছনুয়াপাড়ার একটি বসতঘরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে সেখানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ওই বাড়িতে পৌঁছাতে পুলিশ সদস্যদের প্রায় দুই কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে বসতঘরটি ঘেরাও করা হলে ভেতরে থাকা কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হালকাচাপাড়া এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে শহর বানুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে প্লাস্টিকের একটি বস্তায় রাখা বিপুল পরিমাণ রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে দেশীয়ভাবে তৈরি একটি দোনালা রাইফেল, একটি একনালা রাইফেল ও একটি শটগান। এছাড়া ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুটি তাজা শটগানের কার্তুজ এবং দুটি ব্যবহৃত খোসা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, ক্লিনিং রড ও ছয়টি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী অভিযানে শহর বানুর বসতঘরের পেছনের পুকুর থেকে আরও ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলির সঙ্গে এই ৭৬৭ রাউন্ড যোগ করলে মোট রাইফেলের গুলির সংখ্যা দাঁড়ায় ৮২৫ রাউন্ড।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাত দলের সদস্যদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। চকরিয়া ও আশপাশের এলাকায় সড়ক ও আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হবে।
তদন্তে এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জামের উৎস এবং এগুলো কোথায় ও কীভাবে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দুর্গম এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা অস্ত্র-গুলোর উৎস এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।









