,

নম্বর ৯ মামলার পরোয়ানাভুক্ত মোস্ট ওয়ান্টেড আসামি আবুল বাশার পটুয়াখালীতে গ্রেফতার

মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে চাঞ্চল্যকর ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন মো. আবুল বাশার। পটুয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের টাউন বহালগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত থেকে একের পর এক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পালিয়ে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা হয়নি। শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা এলাকার স্টার রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাকে আটক করে সদর থানা পুলিশ।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও ডাকাতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ মোট নয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলাগুলোতে আদালতের স্পষ্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় তাকে পাকড়াও করতে বেশ কিছুদিন ধরেই মাঠে তৎপর ছিল পুলিশ। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে শুক্রবার বিকেলে তাকে ঘেরাও করে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। অতীতে সাধারণ একটি মুরগির খামারে সামান্য বেতনের কর্মচারী হিসেবে জীবন শুরু করেছিলেন বাশার। কিন্তু কীভাবে চোখের পলকে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক বনে গেলেন, তা নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ও ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, শুধু মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করাই নয়, বরং প্রভাব খাটিয়ে সরকারি খাল দখল করে সেখানে নিজস্ব আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও তার নামে বেনামে বিশাল সম্পত্তি রয়েছে বলে স্থানীয়দের জোরালো দাবি।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন গ্রেফতারকৃত আবুল বাশার। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি দাবি করেন, তার কোনো অপরাধের সঙ্গে বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বা সামাজিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এলাকার কিছু ঈর্ষান্বিত লোক তার সম্মানহানি করার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করেন এই আসামি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির গণমাধ্যমকে জানান, আসামির বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতিসংক্রান্ত মোট নয়টি মামলায় আদালতের সুনির্দিষ্ট ওয়ারেন্ট ঝুলছিল। অনেক দিন ধরেই তিনি আত্মগোপনে থেকে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।