,

সিলেটে শিশু বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক, বললেন ‘মহিলাদের ভাল্লাগে না’

সিলেটে দুই শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে একটি মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে সিলেট নগরের শাহপরান (রহ.) থানা পুলিশ জৈন্তাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

ফয়জুল হক সিলেট সদর উপজেলার পীরের বাজার এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি প্রতিষ্ঠানটির হিফজ শাখায় পড়াতেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ওই শাখার ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশু শিক্ষার্থীকে তিনি যৌন নির্যাতন করেছেন।

পুলিশ জানায়, শিশু দুটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করার খবর পাওয়ার পর ফয়জুল মাদ্রাসা ছেড়ে জৈন্তাপুরে চলে যান বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর বাড়িও জৈন্তাপুর এলাকায়। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ বলেন, দুই শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক ফয়জুল হকের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেয়।

ওসি শিশুদের পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, সম্প্রতি শিশু দুটি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর তারা আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। অভিভাবকেরা তাদের মাদ্রাসায় পাঠানোর চেষ্টা করলেও তারা রাজি হয়নি। একপর্যায়ে শিশু দুটি তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো পরিবারের সদস্যদের জানায়।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশু দুটিকে প্রায় প্রতি রাতে ওই শিক্ষকের কক্ষে যেতে হতো। সেখানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর করা হতো বলে তারা জানিয়েছে। আর কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনমূলক আচরণ করা হয়েছে বলে শিশু দুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে।

শিশুদের বক্তব্য জানার পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুল হক শিশুদের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগের কথা স্বীকার করেছেন। এ সময় পুলিশ তাকে প্রশ্ন করে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ না করে তিনি কেন অন্যভাবে পারিবারিক জীবন গড়ার চেষ্টা করেননি।

ওসি ফেরদৌস আহমদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই শিক্ষক বলেন, ‘মহিলাদের আমার ভাল্লাগে না।’

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী দুই শিশুর শারীরিক অবস্থা ও অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাদ্রাসার মতো আবাসিক বা শিক্ষাকেন্দ্রিক পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শিশুদের বক্তব্য, মেডিকেল পরীক্ষার ফল এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশের করা মামলায় আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।