রকসংগীতের বিশ্বখ্যাত শিল্পী জ্যাক হোয়াইট প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন। গ্র্যামি পুরস্কারজয়ী এই গায়ক, গীতিকার, প্রযোজক ও বহু বাদ্যযন্ত্রে দক্ষ সংগীতশিল্পী আগামী ডিসেম্বরে জোহানেসবার্গ ও কেপটাউনে দুটি বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন।
সফরের প্রথম কনসার্টটি হবে ১১ ডিসেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, জোহানেসবার্গের দ্য ওল্ড পার্ক স্টেশনে। এরপর ১৪ ডিসেম্বর, সোমবার, কেপটাউনের কির্স্টেনবশ বোটানিক্যাল গার্ডেনে মঞ্চে উঠবেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার সংগীতপ্রেমীদের জন্য এটি হবে হোয়াইটের দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় সংগীতজীবনের সরাসরি পরিবেশনা দেখার বিরল সুযোগ।
জ্যাক হোয়াইটের সংগীতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শক্তিশালী গিটারবাদন, স্বতন্ত্র কণ্ঠ এবং প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করার প্রবণতা। দক্ষিণ আফ্রিকার কনসার্ট দুটিতে তাঁর দুই দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনের বিভিন্ন অধ্যায় উঠে আসবে। দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপস, দ্য র্যাকনটিয়ার্স ও দ্য ডেড ওয়েদারের জনপ্রিয় গানগুলোর পাশাপাশি তাঁর একক ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজও পরিবেশনায় স্থান পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
এই সফরের আরেকটি আকর্ষণ তাঁর সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘ফ্রোজেন শার্লট’। এটি হোয়াইটের সপ্তম স্টুডিও অ্যালবাম। অ্যালবামটির শেষ গান হিসেবে রয়েছে ‘নেইবার্স ব্লুজ’, যা তাঁর সাম্প্রতিক সৃষ্টিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। অ্যালবামটি ঘোষণার সময় ‘ডলার বিল’ গানটিও প্রকাশ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক সংগীতমহলে ব্যাপক সমালোচনামূলক প্রশংসা পেয়েছে।
জ্যাক হোয়াইট আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে প্রথম বড় পরিচিতি পান দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের অন্যতম সদস্য হিসেবে। মেগ হোয়াইটকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে ওঠা এই জুটি ২০০০-এর দশকের রকসংগীতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে। সরল বিন্যাস, ব্লুজ-প্রভাবিত রক, তীব্র গিটার এবং সহজ অথচ শক্তিশালী পরিবেশনা তাদের সংগীতকে আলাদা করে তুলেছিল। সেই সময়ের একাধিক গান পরবর্তীকালে আধুনিক রকসংগীতের পরিচিত অংশে পরিণত হয়।
দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের সাফল্যের পর হোয়াইট তাঁর সংগীতের পরিসর আরও বিস্তৃত করেন। দ্য র্যাকনটিয়ার্স ও দ্য ডেড ওয়েদারের মাধ্যমে তিনি ভিন্ন ভিন্ন সংগীতধারা ও পরিবেশনার ধরন নিয়ে কাজ করেন। একই সময়ে তাঁর একক ক্যারিয়ারও শক্ত অবস্থান তৈরি করে।
একক শিল্পী হিসেবে তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘ব্লান্ডারবাস’, ‘ল্যাজারেটো’, ‘বোর্ডিং হাউস রিচ’, ‘ফিয়ার অব দ্য ডন’, ‘এন্টারিং হেভেন অ্যালাইভ’ এবং ‘নো নেম’। এসব অ্যালবামে ব্লুজ, রক, গ্যারেজ রক, পাঙ্ক, ফোক ও পরীক্ষামূলক সংগীতের নানা উপাদান মিলেছে। ফলে হোয়াইটকে একটি নির্দিষ্ট সংগীতধারার মধ্যে আটকে রাখা কঠিন।
তাঁর সর্বশেষ অ্যালবাম ‘ফ্রোজেন শার্লট’ও সেই সৃষ্টিশীল স্বাধীনতার ধারাবাহিকতা বহন করছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় থাকার পরও নতুন শব্দ, নতুন বিন্যাস এবং ভিন্ন ধরনের সংগীতচর্চার প্রতি তাঁর আগ্রহ অটুট রয়েছে।
জ্যাক হোয়াইটের লাইভ পরিবেশনারও আলাদা খ্যাতি রয়েছে। তাঁর মঞ্চ পরিবেশনায় স্বতঃস্ফূর্ততা, তীব্রতা এবং গিটারবাদনের দক্ষতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। একক ক্যারিয়ারের গান ছাড়াও বিভিন্ন সময়ের ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান তাঁর পরিবেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার কনসার্টে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একাধিক অধ্যায় একসঙ্গে উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজের বাইরেও হোয়াইট প্রযোজক, সহযোগী শিল্পী এবং সংগীতপ্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিভিন্ন শিল্পী ও সংগীতঐতিহ্যকে সামনে আনার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার একাধিক গ্র্যামি পুরস্কার ও ব্যাপক সমালোচনামূলক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার দর্শকদের জন্য ডিসেম্বরের দুটি আয়োজন তাই শুধু একটি বিদেশি রক তারকার কনসার্ট নয়; এটি জ্যাক হোয়াইটের দীর্ঘ সংগীতযাত্রার বিভিন্ন অধ্যায় কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ। দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের ব্লুজ-প্রভাবিত রক থেকে শুরু করে দ্য র্যাকনটিয়ার্স ও দ্য ডেড ওয়েদারের বিস্ফোরক শব্দ, পাশাপাশি তাঁর একক ক্যারিয়ারের গান—সব মিলিয়ে সফরটি দক্ষিণ আফ্রিকার রকপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।










