ফেনীর দাগনভূঞায় এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে আটকে রেখে নির্যাতন, মালামাল লুট এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে দাগনভূঞা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে দাগনভূঞা থানায় মামলা করেন।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী চট্টগ্রাম থেকে নিজেদের অটোরিকশায় নোয়াখালীর চরজব্বার উপজেলার মধ্য বাগ্যা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাতে দাগনভূঞায় পৌঁছানোর পর অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ কমে যায়। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে তাঁরা ফাজিলেঘাট রোডের একটি অটোরিকশা গ্যারেজে যান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামী খাবার আনতে কাছের একটি হোটেলে গেলে গৃহবধূকে গ্যারেজে বসিয়ে রেখে যান। সেই সুযোগে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের দাগনভূঞার জগতপুর এলাকার একটি বাড়িতে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে তাঁর স্বামীকে বেঁধে রেখে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। পরে দুজনকেই হাত-পা বেঁধে জগতপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় তাঁরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গৃহবধূর স্মার্টফোন, তাঁর স্বামীর স্মার্টফোন, পরনের স্বর্ণালংকার, একটি সাউন্ডবক্স ও একটি টেবিল ফ্যান নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অটোরিকশাটিকে অচল করতে ব্যাটারির সংযোগের তার ছিঁড়ে ফেলার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ পরে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বামীকে উদ্ধার করে। মামলার এজাহারে নাম থাকা নয়জনের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে দাগনভূঞা, ফেনী সদর, সোনাগাজী, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও রামগতিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে বলে মামলার তথ্য থেকে জানা গেছে।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজিম নোমান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ভুক্তভোগী দম্পতিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালায়। অভিযানে এজাহারভুক্ত ছয়জনকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
ধর্ষণের আলামত পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ জানিয়েছে, মামলার এজাহারে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ করা হয়েছে এবং থানায় ভুক্তভোগী ধর্ষণের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে কোনো জবানবন্দি দেননি। এ কারণে এ পর্যায়ে ধর্ষণসংক্রান্ত পরীক্ষা করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে অভিযোগের সবগুলো দিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এবং আদালতে প্রমাণের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করাই এখন মূল বিষয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা তদন্তে পুলিশ কী ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে, সেটিও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।










