দেশে হাম পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯৮ জন। এর মধ্যে হাম উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫৫ জন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হাম উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জন। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। এ সময় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন।
চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন। অর্থাৎ, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
মৃত্যুর হিসাব পরিস্থিতির আরেকটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪ জনে।
তবে গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাম উপসর্গ এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম—দুটি হিসাব আলাদাভাবে প্রকাশ করছে। ফলে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বা মারা যাওয়া প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিশ্চিত হাম রোগী হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা পৃথকভাবে হিসাব করা হচ্ছে।
প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হাম উপসর্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত হাম রোগীর তুলনায় অনেক বেশি। ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৮ জন হাম উপসর্গে শনাক্ত হলেও নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৬৯৬ জন। এই ব্যবধানের কারণে উপসর্গভিত্তিক ও পরীক্ষাভিত্তিক তথ্যের পার্থক্যটি বিবেচনায় রেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা বা অপুষ্টির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর জটিলতা হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে সাম্প্রতিক মৃত্যুগুলোর পৃথক কারণ বা জটিলতার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
দীর্ঘ সময়ের পরিসংখ্যানেও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা বেশ বড়। ১৫ মার্চ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জনের বিপরীতে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭২ জন। একই সময়ে হাম উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯৪ জন।
অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগীর ক্ষেত্রে ১৯ হাজার ৬৯৬ জন শনাক্ত হওয়ার বিপরীতে মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৫ জন। একই সময়ে হাম উপসর্গে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত এই হিসাব পরিস্থিতির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাম উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, গুরুতর রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং রোগ শনাক্তকরণ ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিদিনের নতুন আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি, সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া এবং মৃত্যুর তথ্যের পাশাপাশি নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যাও আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে শনাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।










