,

কুমিল্লায় মাদক-অস্ত্রবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ২৮৬ জন

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গত দুই মাসে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময়ে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় মোট ২৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, গত দুই মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৬৬ পিস ইয়াবা, ৭২৭ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা, ১ হাজার ৫৭৫ বোতল ফেয়ারডিল, ১ হাজার ২০১ বোতল স্কার্ফ সিরাপ এবং ছয় বোতল বোটকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে অস্ত্রের ব্যবহার বা সংশ্লিষ্টতার আশঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তবে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে পুলিশ আলাদাভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই মাসে মাদক মামলায় ৫৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানামূলে গ্রেফতার করা হয়েছে ৯৪ জনকে। ডাকাতির মামলায় ৫৬ জন এবং ছিনতাই ও চুরির অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য মামলায় আরও ৭৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন অভিযানে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৬ জনে।

দাউদকান্দির ভৌগোলিক অবস্থানও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এ এলাকার মধ্য দিয়ে গেছে। পাশাপাশি মেঘনা ও গোমতী নদীর উপস্থিতির কারণে স্থল ও নৌপথ—দুই দিক থেকেই এলাকাটির গুরুত্ব রয়েছে। ফলে মাদক পরিবহন, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করে পুলিশ।

ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ঠেকানোই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। এ জন্য দাউদকান্দির মহাসড়ক, নদীপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।