নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে ওই যুবককে রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে দেখা যায়।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার গোপালদী পৌরসভার জালাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ভিডিওটি শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে মানুষের নজরে আসে।
মারধরের শিকার যুবকের নাম লিটন। তিনি জালাকান্দি এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘লিটন পাগলা’ নামে পরিচিত। পরিবারের দাবি, মারধরের ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার এক হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবকের নাম সুমন। তিনি একই এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লিটন দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে খাবার সংগ্রহ করেই তার দিন কাটে। ঘটনার দিন শনিবার দিনের কোনো এক সময় তিনি সুমনের মায়ের কাছে খাবার হিসেবে ভাত চান। এ সময় সুমনের অভিযোগ, লিটন তার মায়ের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পরে রাতে সুমন লিটনের ওপর হামলা চালান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দোকানের সামনে লিটনকে মাটিতে ফেলে একটি বড় লাঠি দিয়ে মারধর করছেন সুমন। একপর্যায়ে লিটনকে বাঁচার জন্য চিৎকার করতে দেখা যায়। হামলার সময় আশপাশে কয়েকজন মানুষ উপস্থিত থাকলেও তাকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেননি বলে স্থানীয়দের দাবি।
লিটনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও অভিযুক্তের ভয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় লিটনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে এভাবে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন বলেন, ভিডিওটি তার নজরে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে আহত লিটনের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ, মারধরের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










