নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকের পাড় থেকে তপন শীল (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকার পাগলাবাড়ী মোড়সংলগ্ন ডিএনডি লেকের পশ্চিম পাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে এক ব্যক্তি হাঁটতে বের হলে ডিএনডি লেকের পশ্চিম পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে সেখান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত তপন শীল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আলামিননগর এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায়। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে তপন শীল বাড়িতে ফেরেননি। এরপর রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাসায় না ফেরায় বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরদিন সকালে ডিএনডি লেকের পাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।
তবে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তপন শীল কোথায় গিয়েছিলেন, কীভাবে ডিএনডি লেকের পাড়ে পৌঁছেছিলেন এবং সেখানে তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর আগে তাঁর চলাফেরা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমদাদুল হক বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিহতের স্ত্রীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তপন শীলের মৃত্যুর পেছনে দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো ধরনের নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না যাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।









