কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সার সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট উৎকণ্ঠার জেরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। ডিলার পয়েন্টে সার পেতে বিলম্ব হওয়া এবং পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বুধবার সকালে সোনাহাট স্থলবন্দর সংলগ্ন প্রধান সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে কিছু সময়ের জন্য ওই অঞ্চলের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং সুশৃঙ্খলভাবে সার বিতরণ শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মূলত এর আগের দিন রাতে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার একটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় প্রশাসন। ওই অভিযানে কালো বাজারে পাচার বা মজুত করার উদ্দেশ্যে রাখা ১৬ বস্তা ইউরিয়া সহ মোট ২৩ বস্তা সরকারি সার উদ্ধার করা হয়। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কৃষকদের মধ্যে সার সংকট নিয়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ডিলার পয়েন্টে শত শত কৃষক জড়ো হন। নির্ধারিত সময়ের আগেই ডিলার পয়েন্টে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিন্তু সার বিক্রির কার্যক্রমে সামান্য দেরি হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা সোনাহাট স্থলবন্দর সড়কে নেমে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ইউএনও অমৃত দেব নাথ হ্যান্ডমাইকে কৃষকদের আশ্বস্ত করেন যে এলাকায় সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং প্রত্যেক কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাবেন। তিনি কৃষকদের বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর কৃষকরা সড়ক থেকে সরে যান এবং সোনাহাট কলেজমোড়সহ নির্দিষ্ট ডিলার পয়েন্টগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে সার কেনাকাটা শুরু করেন। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
সার নিতে আসা সাধারণ কৃষকরা অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন ধরে ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সময়মতো পর্যাপ্ত সার পাওয়া যাচ্ছে না। বোরো বা রোপা আমন মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার না পেলে ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কৃষকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।









