মাদারীপুর সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের একটি মসজিদের ইমামের থাকার কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কক্ষটির টিনের চালা ও বেড়ার একাংশ উড়ে গেছে। আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনের বাড়ির আল আকসা জামে মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আকাশ দুই দিন আগে ছুটিতে বাড়িতে চলে যান। এরপর তাঁর থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। কক্ষটির চাবি মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন বিকেলে আসরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ ইমামের তালাবদ্ধ কক্ষের ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন দ্রুত মসজিদে ছুটে গিয়ে কক্ষটির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের প্রভাবে কক্ষটির টিনের চালার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে উড়ে যায়। টিনের বেড়াতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী আগুনে পুড়ে যায়। বিস্ফোরণের পর কক্ষটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকা ঘরের ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরণ ঘটল, তা নিয়ে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ধারণা, বিস্ফোরণের আগে কক্ষটির ভেতরে কোনো ধরনের বিস্ফোরক রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কারা সেখানে এমন কিছু রেখেছে কিংবা এর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আকন বংশের লোকজন মসজিদের ভেতরে বোমা রাখতে পারে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাকিম আকন।
হাকিম আকন বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে কে বা কারা বোমা রেখেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছু জানেন না। তাঁদের ফাঁসানোর জন্যও কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তিনি দাবি করেন। প্রশাসনের কাছে তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানান।
মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, তা তাঁদের জানা নেই। নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে বোমা বা বিস্ফোরক রেখেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। ঘটনাটি নাশকতার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত এবং বিস্ফোরণের ধরন পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, বিস্ফোরকের প্রকৃতি কিংবা এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তালাবদ্ধ একটি কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের মতো জনসমাগমপূর্ণ ও ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কীভাবে বিস্ফোরক পৌঁছাল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









