কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। অভিযানে ১৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ২০ বোতল বিদেশি মদ ও ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মোহাম্মদ মোস্তফা (২২) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি কাঠের বোট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান স্টেশন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আটক মোহাম্মদ মোস্তফা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল হাকিমের ছেলে।
কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মিয়ানমার থেকে ক্রিস্টাল মেথের দুটি বড় চালান নাফ নদী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এমন তথ্য পাওয়ার পর মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর অংশ হিসেবে রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপ কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা জালিয়ার দ্বীপ এবং জালিয়াপাড়া সংলগ্ন এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালান। অভিযান চলাকালে কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তারা জালিয়ার দ্বীপসংলগ্ন প্যারাবন ও জালিয়াপাড়া এলাকার কেওড়া বনের কাছে কাঠের দুটি বোট বিচিং করে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা বোট দুটিতে তল্লাশি চালান। তল্লাশির সময় চায়ের প্যাকেটের ভেতরে বিশেষ কৌশলে মোড়ানো অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ক্রিস্টাল মেথ পাওয়া যায়। সেখান থেকে মোট ১৪ কেজি আইস উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ২০ বোতল বিদেশি মদও জব্দ করা হয়। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত কাঠের বোট দুটি পরে কোস্টগার্ডের হেফাজতে নেওয়া হয়।
কোস্টগার্ডের ভাষ্য, উদ্ধার করা মাদকের চালান মিয়ানমার থেকে নাফ নদীপথে বাংলাদেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ সম্পৃক্ত কি না, তা শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই রাতে উখিয়ার পালংখালী এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফের একটি দল। রাত ১০টার দিকে পালংখালী এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন স্থানে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির গতিবিধি নজরে আসে কোস্টগার্ড সদস্যদের। পরে তাকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে ৫ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। কোস্টগার্ডের দাবি, আটক ব্যক্তিই মোহাম্মদ মোস্তফা।
দুই অভিযানে জব্দ করা মাদকের পরিমাণের মধ্যে রয়েছে ১৪ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, ২০ বোতল বিদেশি মদ এবং ৫ হাজার ইয়াবা। এসব মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি দুটি কাঠের বোট জব্দ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ডের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। নাফ নদী ও সীমান্তসংলগ্ন দুর্গম এলাকা দিয়ে মাদক পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক নৌযান ও ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে মাদকের চালান জব্দ হলেও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের একটি অংশ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জব্দ করা ক্রিস্টাল মেথ, ইয়াবা, বিদেশি মদ ও দুটি কাঠের বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আটক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।









