জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ডেমরায় গুলির তদন্তে অস্ত্রসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

রাজধানীর ডেমরায় বিএনপি নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনার তদন্তে নেমে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন ডেমরা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন ডেমরার বড়ভাঙ্গা এলাকার তাপস (৩৮) এবং পূর্ব বক্সনগর এলাকার মো. মাসুদ রানা (৩৫)। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেমরা থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাপসের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ডেমরা থানার সুলতানা কামাল সেতুর ঢাল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে তাপসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালায় পুলিশ। বরাবো শরীফ মেলামাইলন-সংলগ্ন এলাকায় জলিলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে শনাক্ত হওয়া আরেক আসামি মো. মাসুদ রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জলিলের বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে কাঠের পাটাতনের ওপর থেকে একটি পুরোনো একনলা শটগান ও আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার তাপস ও মাসুদ রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বরাবো এলাকায় তাপসের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়।

সেখানে তাঁর থাকার কক্ষের সানশেডের ওপর থেকে দুটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, দুটি ম্যাগাজিন এবং ১৩ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যে ঘটনায় তদন্ত শুরু

পুলিশের এই অভিযান ও গ্রেপ্তারের সঙ্গে ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় গত ২৮ আগস্ট ভোরে ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে। ওই দিন ডেমরা থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. সেলিমের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চারটি মোটরসাইকেলে করে আট ব্যক্তি ওই বাড়ির সামনে যান। এরপর তাঁরা বাড়িটি লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়েন। গুলির ঘটনায় বাড়িটির দোতলার একটি জানালার কাচ ভেঙে যায়। তবে ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যে কোনো উল্লেখ নেই।

ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং একটি শটগানের কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছিল। এসব আলামতও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে সেলিমের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে অস্ত্রগুলোর ব্যবহার, গুলির ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হবে।

বর্তমানে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রগুলো গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি পুলিশ।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর