কুমিল্লার ইপিজেড সড়কের ঢুলিপাড়া এলাকায় এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া বাসায় প্রবেশের ঘটনায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ওলামা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকির হোসেনকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের দিকে মাওলানা জাকির হোসেন একজন নারীকে সঙ্গে নিয়ে তার ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। ওই সময় বাসায় পরিবারের অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানান। বিষয়টি তাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে জড়ো হন এবং তাকে ও ওই নারীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নারীর কাছ থেকে যৌনকর্মে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ অভিযোগের সত্যতা বা উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্থানীয় কয়েকজনকে মাওলানা জাকির হোসেনের কাছে ওই নারীকে রাতে বাসায় নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ওই নারী ব্যক্তিগত কাজে তার কাছে এসেছিলেন। তবে ওই বক্তব্যের বাইরে ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের পর মাওলানা জাকির হোসেন সেখান থেকে চলে যান। এরপর তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে মাওলানা জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভালোভাবে শুনতে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। তবে ভিডিওতে থাকা বক্তব্য, স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ, মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের করা অভিযোগের সত্যতা, ওই নারীর পরিচয় এবং কথিত সামগ্রী উদ্ধারের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে অভিযোগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।









