গাজীপুরের শিল্পনগরী টঙ্গীতে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চিহ্নিত শীর্ষ মাদককারবারি মিজান ওরফে ‘কুত্তা মিজান’ (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই সফল অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে এক কেজি হেরোইন ও ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। মাদকের বড় ধরনের এই চালান আটকের ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংলগ্ন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়াম এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে এক কারবারি অবস্থান করছে—এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। তথ্যের সত্যতা যাচাই করে থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত রাত দেড়টার দিকে স্টেডিয়ামের ২ নম্বর গেটের সামনে গিয়ে ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে কুখ্যাত মাদককারবারি মিজান সেখান থেকে চম্পট দেওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তবে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে শেষ পর্যন্ত হাতেনাতে ধরে ফেলতে সক্ষম হন।
আটকের পর ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মিজানের সাথে থাকা পলিথিনে অত্যন্ত সুকৌশলে মোড়ানো এক কেজি হেরোইন এবং বিশেষ প্লাস্টিকের প্যাকেটে সাজানো ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা। জব্দ করা এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাদক বিক্রির নগদ ৫ হাজার ৫১০ টাকা, তার যোগাযোগের মাধ্যম দুটি স্মার্টফোন এবং দ্রুত চলাচলের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে।
টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশ প্রশাসনের তথ্যমতে, মিজান দীর্ঘদিন যাবৎ শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক সরবরাহের মূল হোতা হিসেবে সক্রিয় ছিল। বিভিন্ন সীমান্ত ও দূরবর্তী এলাকা থেকে মাদকের বড় বড় চালান এনে সে টঙ্গী, গাজীপুর ও আশপাশের খুচরা বিক্রেতা এবং সেবীদের কাছে পৌঁছে দিত। সংঘবদ্ধ একটি চক্রের মাধ্যমে সে এই বেআইনি কারবার ছড়িয়ে দিয়েছিল। এর ফলে এলাকার যুবসমাজ চরম বিপথগামী হচ্ছিল এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছিল। স্থানীয় মানুষের কাছে সে এক আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ছিল।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল রহমান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রক্রিয়াধীন সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত মিজানকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। টঙ্গী এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স এবং এ ধরনের কঠোর তল্লাশি ও ঝটিকা অভিযান নিয়মিত চালু থাকবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।









