মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা পর্যায়ের এক নেতাসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে কুলাউড়া শহরের উত্তর বাজার এলাকায় কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কে এনসিপির দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দলীয় আধিপত্য বিস্তার এবং দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুলাউড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে সংঘর্ষে উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া, দলটির নেতা তোফায়েল আহমদ, সাহেল আহমদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়াকে আটক করা হয়। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে আহতদের পরিচয় ও তাদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই কুলাউড়া থানায় মামলা করেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদ। মামলায় এহসান জাকারিয়া, তোফায়েল আহমেদ, সাহেল আহমেদ, ফাহিম আহমদ জনি, সোহাগ মিয়া, জুনেদ আহমেদ, তারেক জামিল, রুহুল আমিন, আরিফুল ইসলাম ও ইফতিকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে তামিম আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য এহসান জাকারিয়া তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তামিম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এহসান জাকারিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়ার পর তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তামিম আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখা যাওয়ার পথে কুলাউড়ার উত্তর বাজার এলাকায় তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন হামলাকারীদের আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে এহসান জাকারিয়া বা অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ আহমদ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। দলীয়ভাবে বিষয়টি তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং আটক পাঁচজনকে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা বা সংঘর্ষ না ছড়ায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে দলীয় বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ কীভাবে প্রকাশ্য সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে, তা নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।









