জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

টঙ্গীতে হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মিজান ওরফে ‘কুত্তা মিজান’ নামের ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি রয়েছেন, যাকে পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত ও মাদক কারবারে জড়িত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই চারটি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের তথ্য জানায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক সাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘বিশেষ অভিযান-৮১’-এর অংশ হিসেবে রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে টঙ্গী বাটা গেটসংলগ্ন শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামের গেটের সামনে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে মিজানকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে এক কেজি হেরোইন, দুই হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার করা হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য কোটি টাকা। বিপুল পরিমাণ হেরোইনের পাশাপাশি আড়াই হাজার ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও মোটরসাইকেল বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

গ্রেপ্তার মিজান টঙ্গীর হাজী মাজার এলাকার আতাব উদ্দিন ওরফে জানু মিয়ার ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আগে দুটি মাদক মামলা, একটি দ্রুত বিচার আইনের মামলা এবং আরও একটি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া তিনি একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

একই অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাঁদের কাছ থেকে কী পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যে আলাদা করে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানে মিজানের কাছ থেকে এক কেজি হেরোইন ও দুই হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে পুলিশ। মাদকদ্রব্যের সরবরাহ ও পরিবহন ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর