মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালের একজন চুক্তিভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্সচালকও রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন বসতি এলাকার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত (৪৭), পশ্চিম সেওতা এলাকার খন্দকার আতিকুর রহমান ওরফে রুবেল (৪০) এবং হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা কলাহাটী গ্রামের অ্যাম্বুলেন্সচালক রেজাউল করিম খান ওরফে মিলন (৪১)।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা মোড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বিকেল ৪টার দিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ফরিদ মোহাম্মদ সৈকত ও খন্দকার আতিকুর রহমানের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা চালক রেজাউল করিম খানকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো মাদক পরিবহনের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং কোথায় নেওয়া হচ্ছিল, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
ডিবি আরও জানায়, রেজাউল করিম খান ২০১৩ সালের মে মাস থেকে চুক্তিভিত্তিক চালক হিসেবে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। হাসপাতালটির চারটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি তিনি নিয়মিত চালাতেন। সরকারি রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি অ্যাম্বুলেন্স মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ফরিদ মোহাম্মদ সৈকতের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আতিকুর রহমান তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহন করে আসছিলেন বলেও ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে ডিবি পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সচালক রেজাউল করিমকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিবির পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো বলেন, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সাধারণত রোগী পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এ ধরনের যান মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার যানবাহনের নিরাপত্তা ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। মামলার তদন্তে মাদক পরিবহনের সঙ্গে আর কেউ জড়িত ছিলেন কি না, কীভাবে সরকারি যানটি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া হয়েছিল এবং এর আগে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।









