চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে মুখোশধারী একদল অস্ত্রধারীর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা ৭৮ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। পরে তাঁর চোখের সামনে ঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় হামলাকারীরা।
বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত বাবুল ভট্টাচার্য পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক। হামলায় তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবীর ভট্টাচার্যের মেয়ে সন্তান প্রসবের জন্য চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি ছিলেন। মেয়ের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তখন ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। ফলে ওই রাতে বাড়িতে কেউ ছিলেন না। প্রবীরের ঘরের পাশের কক্ষে তাঁর চাচা বাবুল ভট্টাচার্য একা ছিলেন।
রাতের কোনো একসময় সাত থেকে আটজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তারা প্রবীর ভট্টাচার্যের পাকা ঘরের দরজার তালা কাটছিল। বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাইরে বের হন বাবুল ভট্টাচার্য। তখন অস্ত্রধারীরা তাঁকে জিম্মি করে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাবুল ভট্টাচার্যের ভাষ্য, উঠানে বের হয়ে তিনি সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে জিম্মি করে মারধর শুরু করা হয়। পরে রশি দিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পেটানো হয়। ডাকাতি শেষে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।
প্রবীর ভট্টাচার্য জানান, তাঁর ঘরের আলমারি ভেঙে প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। লুট হওয়া টাকার মধ্যে চার লাখ টাকা ছিল জমি কেনার উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে তোলা। ওই টাকা ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হয়েছিল। বাকি টাকা আগে থেকেই বাড়িতে রাখা ছিল বলে তিনি জানান।
লুটের ঘটনায় পরিবারের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বাবুল ভট্টাচার্যের ওপর হামলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাঁর বয়স ৭৮ বছর হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে হামলাকারীরা কারা, তারা কীভাবে বাড়িতে ঢুকেছিল এবং ঘটনার আগে বাড়িটি সম্পর্কে কোনো তথ্য তাদের কাছে ছিল কি না—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়।
আহত বাবুল ভট্টাচার্যকে বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামা বিনতে সফিউল জানান, তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরের অন্য কোথাও গুরুতর জখম পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পটিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি চুরি বলে মনে হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত ধরন, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং লুট হওয়া মালামালের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশের তদন্তে বাড়ির দরজা ও তালা ভাঙার ধরন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত এবং হামলাকারীদের চলাচলের তথ্য যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের সময় ও পরবর্তী গতিবিধিও তদন্তের অংশ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের কাছে রাতের এই ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে কীভাবে হামলাকারীরা ঘরে ঢুকল এবং এত বড় অঙ্কের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, তদন্তের পরই ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।









