ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনাসদস্যরা অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং ৫০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিয়ে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
অভিযানের পর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন্দ্রটির একটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ইউএনআরডব্লিউএ এখন আমাদের দখলে।’ তাঁর এই বক্তব্যের পর জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবেশ ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইউএনআরডব্লিউএ-এর অন্যতম পুরোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি ভূমিকা রেখে আসছে। আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জাতিসংঘের স্থাপনাগুলো বিশেষ সুরক্ষা পাওয়ার কথা থাকায় সেখানে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রবেশ ও দখলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, পূর্ব জেরুজালেমে তাদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ জাতিসংঘের অন্যান্য স্থাপনার অখণ্ডতা রক্ষা করা জরুরি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউএনআরডব্লিউএ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে। গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম রয়েছে। ফলে সংস্থাটির স্থাপনা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো ঘটনা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য চলমান মানবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়েও সতর্কতা
এদিকে গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ করতে অভিভাবকদের সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি পক্ষ থেকে ঘুড়ি, বেলুন ও চালকবিহীন উড়োজাহাজ পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের হত্যার হুমকি দেওয়ার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
গাজার স্থানীয় কমিটিগুলো এক বিবৃতিতে অভিভাবকদের শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব সীমিত করা এই নির্দেশের উদ্দেশ্য নয়; বরং সম্ভাব্য সামরিক হামলা থেকে তাদের নিরাপদ রাখাই প্রধান লক্ষ্য।
এর আগে রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের দিকে ঘুড়ি, বেলুন বা চালকবিহীন উড়োজাহাজ পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হত্যার লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে যেসব এলাকা থেকে এসব বস্তু পাঠানো হচ্ছে, সেসব এলাকা খালি করার হুমকিও দেওয়া হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
গাজায় ঘুড়ি ও বেলুন নিয়ে ইসরায়েলি নিরাপত্তা উদ্বেগ নতুন নয়। অতীতে সীমান্তের ওপারে আগুন লাগানো বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর অভিযোগে এ ধরনের উড়ন্ত বস্তু ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে ইসরায়েল একাধিকবার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধের নির্দেশ নতুন করে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একই সময়ে পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলের ঘটনা এবং গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে সতর্কতা—দুই ঘটনাই ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বেসামরিক মানুষের জীবন ও মানবিক কার্যক্রম ঘিরে চলমান উত্তেজনার চিত্র তুলে ধরছে। জাতিসংঘের স্থাপনার সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।









