দীর্ঘদিনের পরিচিত লেস্টার সিটির সঙ্গে হামজা চৌধুরীর সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের এই মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ডার্বি কাউন্টি। মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও বহুমুখী দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই হামজাকে পছন্দ করেছে ক্লাবটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের দলবদলবিষয়ক প্রতিবেদক মাইক ম্যাকগ্রার এক প্রতিবেদনে ডার্বি কাউন্টির এই আগ্রহের কথা উঠে এসেছে। তবে হামজার সম্ভাব্য দলবদল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই রয়েছে। দুই ক্লাবের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা চুক্তি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়া হবে, নাকি ধারের চুক্তিতে আনার চেষ্টা করা হবে—এ বিষয়টিও পরিষ্কার নয়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ডার্বি কাউন্টিতে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত দলবদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তবে হামজার জন্য সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। লেস্টার সিটি বর্তমানে ইংলিশ ফুটবলের তৃতীয় স্তর লিগ ওয়ানে খেলছে। বিপরীতে ডার্বি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে, যা ইংল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর। ডার্বিতে যোগ দিতে পারলে হামজা আবারও তুলনামূলক উচ্চমানের প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবেন।
ডার্বির আগ্রহের অন্যতম কারণ হতে পারে হামজার বহুমুখী সামর্থ্য। রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে তাঁর মূল ভূমিকা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী রাইট-ব্যাক পজিশনেও খেলতে পারেন তিনি। মাঠে একাধিক দায়িত্ব পালনের এই সক্ষমতা একজন খেলোয়াড়কে দল গঠনের ক্ষেত্রে বাড়তি মূল্য দেয়।
হামজার লেস্টার-যাত্রা অবশ্য বেশ দীর্ঘ। ক্লাবটির যুব একাডেমি থেকে উঠে এসে ২০১৫ সালে মূল দলে অভিষেক হয় তাঁর। এরপর নিয়মিত খেলার সুযোগ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে ধারের চুক্তিতে বার্টন অ্যালবিয়ন, ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলেছেন। সর্বশেষ ধারের মেয়াদ শেষ করে গত মৌসুমে লেস্টার সিটিতে ফিরে আসেন তিনি।
লেস্টারের সঙ্গে হামজার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। ফলে চুক্তির শেষ পর্যায় যত এগিয়ে আসবে, তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাও তত বাড়তে পারে। লেস্টার যদি তাঁকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দলবদল থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগও থাকবে ক্লাবটির।
ডার্বি কাউন্টি গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নশিপে অষ্টম স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেছিল। নতুন মৌসুমে দলটির লক্ষ্য আরও ওপরে ওঠা। সেই পরিকল্পনায় মাঝমাঠকে শক্তিশালী করতে হামজার মতো অভিজ্ঞ ও একাধিক পজিশনে খেলতে সক্ষম একজন ফুটবলার কার্যকর হতে পারেন।
বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছেও বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। লেস্টারের হয়ে ইংলিশ ফুটবলে বেড়ে ওঠা হামজা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যতম আলোচিত খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ক্লাব পরিবর্তন হলে সেটি জাতীয় দলের খেলায় তাঁর প্রস্তুতি ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত হামজা, লেস্টার সিটি কিংবা ডার্বি কাউন্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তাই আপাতত বিষয়টি আগ্রহ ও সম্ভাবনার পর্যায়েই রয়েছে। দলবদলের আলোচনা এগোয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত হামজার নতুন ঠিকানা ডার্বি কাউন্টি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।









