,

বসুন্ধরা থেকে গ্রেপ্তার ১৫ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী রিমান্ডে

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৫ নেতাকর্মীকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক হাফিজুর রহমান আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন যুবলীগ নেতা মোতালিব, যুবলীগ নেত্রী মেহেজাবীন আক্তার মালা, রুবেল, জি কে মাসুদ, অন্তর মিয়া, রমজান, মামুন, মিঠু ওরফে আমির হোসেন, আব্দুর রহমান ওরফে আব্দুল্লাহ, সুমন মিয়া, আরিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, সাইম হোসেন, জাহিদ হাসান ও শাহিন হোসেন ইমন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট রাতে ভাটারা থানার আওতাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম-ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন সেখান থেকে চলে গেলেও ৫৪ জনকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, যুব মহিলা লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে তারা সেখানে সমবেত হয়ে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন।

অভিযানের সময় দুটি আইফোন, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৫ আল্ট্রা মুঠোফোন এবং তিনটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকটি ব্যানারে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের কথা লেখা ছিল। কিছু ব্যানারে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ছবিও ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা ও ঝটিকা মিছিল আয়োজনের উদ্দেশ্যে ওই ব্যক্তিরা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এ সময় তারা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন বলেও পুলিশ দাবি করেছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

অভিযানের পরদিন ৫২ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুই কিশোরকে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

কারাগারে পাঠানো অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন লিমন খান, দেওয়ান ইসমাইল, ফাহিম মিয়া, রতন, রাব্বি ওরফে রাফি, রাতুল শীল, মিনারুল মিয়া, মাসুদ রানা ওরফে লিমু, জিহাদ হাসান, আবু সাইম ওরফে সায়েম বাবু, ফাহিম, শাকিল মিয়া, রাজীব, সানি, রাজন মিয়া, মো. তারেক, তারেক, শাহিন, ফয়সাল, মামুন মিয়া, মুন্না, তামজিদ মিয়া নয়ন, ইয়াছিন, জামিল, রাকিবুল হাসান রাতুল, ফয়সাল, সিয়াম, শরিফ, সাদিকুর রহমান পায়েল, শাহিন আলম, আব্দুল আলী বাবু, অনিক, তারিকুল ইসলাম, আ. রহমান, ইয়ামিন মিয়া, আতিক ও আশিক।

অপর দুই কিশোরের নাম ঈশান ও হাসিব।

রিমান্ডে নেওয়া ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করবে। ওই সমাবেশের উদ্দেশ্য কী ছিল, সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে পুলিশের করা অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং তাদের দায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।