জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

জামালপুরে চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলায় ১৪ জনের দণ্ড

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে চাচা ও ভাতিজাকে হত্যার প্রায় এক দশক পর মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ১৪ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. শাখাওয়াত, মো. সোহেল, আল আমিন, মো. সাদ্দাম, মো. অন্তর, মো. উজ্জ্বল ও মো. ফয়জুর। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চান মিয়া, মো. জিয়ার, মো. শাহ আলম, মো. কাওছার, মো. সুমন, মো. রিফাত ও মো. মোস্তফা। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই মাদারগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা।

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৬ মে রাতে গজারিয়া এলাকার বাসিন্দা মহর আলী ও তাঁর ভাতিজা স্বপন মিয়াকে গানবাজনার অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। মহর আলীর বয়স তখন ১৯ বছর এবং স্বপন মিয়ার ১৬ বছর।

অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, বাড়ি থেকে বের করে নেওয়ার পর তাঁদের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার একটি পাটখেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত ও পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে তাঁদের মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর স্বজনেরা তাঁদের খোঁজ করতে থাকেন। তিন দিন পর কুকুরমারী এলাকার ওই পাটখেত থেকে মহর আলী ও স্বপন মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্বপন মিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২০১৬ সালের ১৯ মে মাদারগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় শুরুতে মোট ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে যায়। বিচার চলাকালে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের বক্তব্য, মামলার নথি এবং উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই আদালত সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

মামলার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৬ সালে। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ বছর পর রায় ঘোষণা হলো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্ত, সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের এই সিদ্ধান্তে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরই তা কার্যকর হয় না। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের উচ্চ আদালতে বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে। ফলে রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায় শেষ হলেও মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর