ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মিরাজুল ইসলাম টুটুল গাজীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার বা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল।
মিরাজুল ইসলাম টুটুল গাজী গালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ওই অভিযানের সময় টুটুল গাজী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট রাত ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাপুর থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আদাখোলা কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে হাসান হাওলাদার (১৯) ও মেহেদী হাসান (২৩) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সোনালীর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুটিয়াখালী এলাকার আওলাদ হোসেন (১৯) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার তিনজনের কাছ থেকে মোট ২২টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে টুটুল গাজীর কাছে আরও ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে টুটুল গাজী কথিত মূল চালান নিয়ে পালিয়ে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে আসামি করা হয়। পরদিন ৮ আগস্ট তাদের ঝালকাঠির আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে পুটিয়াখালী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, টুটুল গাজীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে এলাকায় গেলেও টুটুল গাজীর সমিতির কার্যালয়ে বসে সময় কাটান। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের কোনো আপস নেই। কোনো সদস্য কারও সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ বা যোগসাজশে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত ৯ আগস্ট বিকেলে পুটিয়াখালী মীরেরহাট বাজারে স্থানীয়দের উদ্যোগে মাদকবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাজার এলাকায় একটি মিছিলও বের করা হয়। সমাবেশে বক্তারা এলাকায় মাদক সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গালুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর টুটুল গাজীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ বাড়তে থাকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দৈনিক কিস্তিতে পরিচালিত একটি সমিতির কার্যক্রমের আড়ালে মাদক ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে টুটুল গাজীর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে আইনগত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য, উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস এবং মামলার পরবর্তী তদন্তে প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে।









